আজ লিখবো আমার ছোটবেলার এক বন্ধুর গল্প।
সেদিন সন্ধ্যায় কফির কাপ হাতে বসেছিলাম আমরা। বহুদিন পর দেখা। জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে আলাদা করে দেয় ঠিকই, কিন্তু কিছু বন্ধুত্ব আছে যেগুলো সময়ের সাথে পুরনো হয় না। কথায় কথায় তাকে বললাম, “তোর জীবন নিয়ে একটা লেখা লেখা যায় জানিস?”
সে একটু হেসেছিল।
তারপর বলেছিল, “লিখিস। তবে ঠিকভাবে লিখিস। মানুষ যেন ভুল না বোঝে।”
আমি তো তার জীবনের প্রায় সব গল্পই জানতাম। তবুও বললাম, “গুরুত্বপূর্ণ ছোটখাটো ঘটনাগুলো আবার বল। আমি note করে নেই।”
সে কফির কাপে চুমুক দিয়ে ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলো।
তৈমুর আসলে introvert ধরনের মানুষ। বাইরে থেকে খুব সাধারণ, শান্ত, হিসেবি। কিন্তু ভেতরের পৃথিবীটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। কল্পনায় ভরা। ভীষণ emotional। family oriented। দায়িত্বশীল। প্রেম করার ইচ্ছে ছিল খুব, কিন্তু সুযোগ পায়নি ঠিকভাবে। কিংবা বলা ভালো, সময় তাকে কখনও পুরোপুরি সুযোগ দেয়নি।
তার একটা কথাই আমার সবচেয়ে বেশি মনে আছে।
সে বলেছিল,
“আমি প্রেমে ব্যর্থ না রে… আমি শুধু টাইমিংয়ে হেরে গেছি।”
তৈমুরদের সময়টা অন্যরকম ছিল।
তখন ভালোবাসা এত সহজ ছিল না। এখনকার মতো online এ পরিচয়, instant reply, seen, block, breakup — এসব ছিল না। তখন মানুষ অপেক্ষা করতো। ল্যান্ডফোনের পাশে বসে থাকতো। ছাদে উঠে আকাশ দেখতো। ঈদের অনুষ্ঠানে কারও এক ঝলক দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতো।
স্কুলে পড়ার সময় এক আত্মীয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল তৈমুর। সেদিনই অনেক বছর পর আবার দেখেছিল অ্যানিকে। ছোটবেলায় আগেও দেখেছে তাকে, কিন্তু এবার যেন অন্যরকম লাগছিল।
মেয়েটাকে দেখার পর থেকেই বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল তার। বারবার তাকাতে ইচ্ছে করছিল। কথা বলতে ইচ্ছে করছিল। অথচ কী বলবে বুঝতে পারছিল না।
ওই বয়সে ওটাকে হয়তো প্রেম বলা যায় না। কিন্তু ভালো লাগাটা খুব সত্যি ছিল।
অনুষ্ঠানের পুরো দুই দিন যেন ঘোরের মধ্যে কেটেছিল তৈমুরের। ভিড়ের মাঝেও সে শুধু অ্যানিকেই খুঁজছিল। বাড়ি ফিরে স্কুলে বন্ধুদের কাছে গল্প করতো তাকে নিয়ে। বন্ধুরা ছবি দেখতে চাইতো। কিন্তু তখন তো মোবাইল ছিল না। ছবি মানে স্টুডিও, অ্যালবাম, বা খুব যত্নে রাখা কোনো খাম।
তাই ছবি দেখাতে পারেনি।
শুধু গল্প করেছে।
তারপর অপেক্ষা।
আবার কবে দেখা হবে…
অদ্ভুতভাবে সেই সুযোগ এসেও গিয়েছিল খুব দ্রুত। এক বিকেলে অ্যানি ভাইবোনদের নিয়ে বেড়াতে এলো তৈমুরদের বাসায়। কয়েক দিনের জন্য থাকবে।
তৈমুর বুঝে গিয়েছিল, এবার কিছু একটা বলতেই হবে।
কিন্তু সেই সময়ে প্রেমের কথা বলা মানেই বিশাল সাহসের ব্যাপার। ধরা পড়ে গেলে পরিবার পর্যন্ত জানাজানি হয়ে যেতে পারে। তবুও এক বিকেলে ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে কাঁপা গলায় নিজের মনের কথা বলে ফেলেছিল সে।
আজ এত বছর পরও ঠিক কী বলেছিল সেটা তার মনে নেই।
শুধু মনে আছে, অ্যানি বলেছিল,
“ভেবে বলবো।”
সেই রাতটা তৈমুরের কাছে অনেক বড় ছিল।
পরদিন বিকেলে জানালার পাশে দাঁড়িয়েছিল অ্যানি। তৈমুর দূর থেকে জিজ্ঞেস করেছিল,
“ভেবে দেখেছো?”
অ্যানি একটু হেসে মাথা নেড়েছিল।
তারপর খুব আস্তে বলেছিল,
“হ্যাঁ।”
তৈমুর বলেছিল, ওই একটা “হ্যাঁ” শুনে তার মনে হয়েছিল পৃথিবীর সবকিছু পেয়ে গেছে।
আর তার পরের দিনই ঘটেছিল এমন একটা মুহূর্ত, যেটা সে কখনও ভুলতে পারেনি।
বিকেলের ছাদ। চারপাশে নরম রোদ। দূরে কারও বাসা থেকে ভেসে আসছিল পুরনো বাংলা গানের শব্দ।
সেদিন প্রথমবার অ্যানিকে kiss করেছিল তৈমুর।
খুব innocent একটা মুহূর্ত ছিল সেটা। তৈমুর বিশ্বাস করতো, কাউকে kiss করলে সে মানুষটা আর কখনও ছেড়ে যায় না। হয়তো সারাজীবন নিজের হয়ে থাকে।
পরে অবশ্য জীবন তাকে শিখিয়েছিল — kiss কোনো সম্পর্কের guarantee না।
ভালোবাসা অনেক বেশি জটিল।
একবার নাকি নিজের রক্ত দিয়ে চিঠিও লিখেছিল সে অ্যানিকে। শুনে আমি হেসে ফেলেছিলাম। সে নিজেও হেসেছিল।
বলেছিল,
“বোকা ছিলাম রে।”
তবে অ্যানির মধ্যে সেই গভীর emotional involvement কখনও খুব একটা খুঁজে পায়নি তৈমুর। হয়তো দুজনের অনুভূতির গভীরতা এক ছিল না।
তারপর একদিন কোনো বড় কারণ ছাড়াই সম্পর্কটা শেষ হয়ে যায়।
তৈমুর কষ্ট পেয়েছিল।
কিন্তু জীবন তখন তাকে আরেকটা জিনিস খুব দ্রুত শিখিয়ে দিচ্ছিল — career।
ধীরে ধীরে সে বুঝতে শুরু করলো, শুধু প্রেম দিয়ে জীবন চলে না। তার family background খুব strong ছিল না। পড়াশোনাতেও সে extraordinary student ছিল না। মাঝারি ধরনের ছাত্র। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় একটা anxiety কাজ করতো তার মধ্যে।
কী হবে সামনে?
কীভাবে দাঁড়াবে জীবনে?
কে সাহায্য করবে?
ডিগ্রি শেষ করেই চাকরি খোঁজা শুরু করেছিল তৈমুর। newspaper এর কাটিং কেটে কেটে vacancy বের করতো। interview দিত। reject হতো। আবার apply করতো।
এভাবেই একদিন একটা চাকরি পেয়ে যায়।
শুরু হয় তার কঠিন জীবন।
ছোট্ট ভাড়া বাসা। একটা খাট। একটা টেবিল ফ্যান। দেয়ালের পাশে বইয়ের স্তূপ। মাস শেষে হিসেব করে চলা। নিজের খরচ নিজে চালানো। একই সাথে higher education complete করা।
তখন তার মধ্যে একটা inferiority complex কাজ করতো। সবার সাথে খুব মিশতো না। মনে মনে ভাবতো,
“একদিন establish হতে পারলে তখন…”
তৈমুরের একটা ব্যাপার আমার সবসময় ভালো লাগতো।
সে কখনও loan করেনি।
খুব হিসেব করে চলতো। নিজের সাথে নিজের commitment ছিল। কিছু লক্ষ্য ঠিক করেছিল জীবনে। ধীরে ধীরে সেদিকেই এগোচ্ছিল।
এই সময়েই জীবনে এসেছিল কিছু ক্ষণিকের ভালো লাগা। রোজি, নিনি — এরা কেউ পুরো গল্প হয়ে ওঠেনি। শুধু জীবনের ভেতর দিয়ে হালকা বাতাসের মতো চলে গিয়েছিল।
তবে বৃতির ঘটনা আলাদা ছিল।
ঢাকার বাইরে চাকরির সময় বাড়িওয়ালার মেয়ে বৃতিকে তার খুব ভালো লেগেছিল। কিন্তু কিছু বলার সাহস হয়নি কখনও।
পরে জানতে পারে মেয়েটার দুটো kidney-ই নষ্ট।
তৈমুর নাকি সত্যি সত্যিই নিজের একটা kidney donate করতে চেয়েছিল।
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
“তুই সিরিয়াস ছিলি?”
সে খুব স্বাভাবিকভাবে বলেছিল,
“হুম। মানুষটাকে বাঁচাতে ইচ্ছে করছিল।”
হয়তো এটাকেই ভালোবাসার সবচেয়ে নিরব রূপ বলে।
এরপর ঢাকার এক coaching center এ পরিচয় হয় আরেক ফারজানার সাথে। মেয়েটা বোরকা-নিকাব পরতো। শুধু চোখ দেখা যেত। কিন্তু তৈমুরের নাকি সেই চোখ দুটো অসম্ভব ভালো লেগেছিল।
তখন mobile phone নতুন নতুন এসেছে। letter এর জায়গা নিয়েছে SMS।
তৈমুর তাকে letter দিয়ে propose করেছিল। পরে একদিন ফোন করে ফারজানা শুধু বলেছিল,
“না।”
এই “না” শুনতেও মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যায় একসময়।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও তার romantic মনটা মরে যায়নি। এক ম্যাডামের হাসিতে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল সে। নাম সম্ভবত হাসিনা নার্গিস।
যেদিন ম্যাডামের class থাকতো, সেদিনই শুধু class করতো তৈমুর।
বন্ধুরা এটা নিয়ে অনেক মজা করতো।
কিন্তু আসলে তৈমুর মানুষটার ভেতরে সবসময়ই একটু fantasy বেঁচে ছিল।
তারপর একসময় career track change করলো সে।
এবার ধীরে ধীরে financially stable হতে শুরু করলো।
আর ঠিক তখনই জীবনে এলো আরেক ফারজানা।
ফারজানা রুবি।
মেডিকেল student।
তৈমুর বলেছিল, মেয়েটাকে দেখতে খুব innocent লাগতো। ঘন কালো লম্বা চুল। শান্ত স্বভাব। খুব decent।
প্রায় এক বছর সম্পর্ক ছিল তাদের।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, পুরো সময়ে মাত্র একবার দেখা হয়েছিল সামনাসামনি।
তবুও emotional attachment ছিল গভীর।
তখনকার ভালোবাসাগুলো এমনই ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা phone call না হলেও মানুষ connected থাকতো। দিনের পর দিন SMS চলতো। ছোট ছোট কথাগুলো জমে থাকতো inbox এ।
“খেয়েছো?”
“ঘুমাওনি এখনও?”
“আজ খুব বৃষ্টি।”
এই সাধারণ কথাগুলোই একসময় মানুষের পৃথিবী হয়ে যেত।
তৈমুর এবার খুব serious ছিল।
প্রথমবারের মতো family-wise এগিয়েছিল। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিল। এমনকি ফারজানার বাবার কথামতো land property কেনার plan পর্যন্ত করেছিল।
সে সত্যিই চেয়েছিল এবার সম্পর্কটা বিয়ে পর্যন্ত যাক।
কিন্তু ফারজানার বাবার confidence ছিল না তৈমুরের উপর। তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি যে এই ছেলেটা একদিন অনেক দূর যাবে।
শেষ পর্যন্ত রুবির বিয়ে অন্য জায়গায় হয়ে যায়।
তৈমুর একবার খুব চুপচাপ গলায় আমাকে বলেছিল,
“আমি রুবিকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করছিলাম যে আমরা নিজেরাই বিয়ে করে ফেলি… কিন্তু সে রাজি হয় নাই।”
কথাটা বলার পর কিছুক্ষণ চুপ ছিল সে।
তারপর ধীরে ধীরে বলেছিল,
“আজও বুঝি না… এটা কি আসলেই parent ভক্তি ছিল? নাকি আমার উপর confidence ছিল না তার? নাকি ভালোবাসাটাই যথেষ্ট ছিল না? নাকি ও নিজেই confused ছিল?”
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সে আজও পায়নি।
পরে একসময় রুবির বোনের সাথে তার কথা হয়েছিল। সেখান থেকে জানতে পেরেছিল, সম্পর্কের শুরুতে নাকি রুবি খুব একটা seriousness দেখায়নি। তবে ২০১৫ সালে হজ করে আসার পর তৈমুরের প্রতি তার আচরণ কিছুটা বদলেছিল।
তৈমুর বলেছিল, হজে গিয়ে সে রুবির জন্য আলাদা করে উমরাহ করেছিল।
কথাটা বলার সময় তার চোখে এক ধরনের ক্লান্ত শান্তি ছিল।
হয়তো তখন সে সত্যিই সম্পর্কটাকে জীবনের অংশ ভেবে ফেলেছিল।
সে রুবির বাবাকে অনেকদিন blame করতো। মনে হতো, মানুষটা একটু বিশ্বাস করলে হয়তো গল্পটা অন্যরকমও হতে পারতো।
কিন্তু পরে পরিবারের মানুষ তাকে অন্যভাবে বুঝিয়েছিল।
“মেয়ে সত্যি রাজি থাকলে, শুধু বাবার চাওয়ায় কিছু হয় না।”
এই কথাটা তৈমুরকে আরও নীরব করে দিয়েছিল।
তারপর থেকে হয়তো সে আর কাউকে পুরোপুরি দোষ দেয় না।
তবুও কিছু প্রশ্ন আছে, যেগুলো মানুষের ভেতরে আজীবন ঘুরপাক খেতে থাকে।
রুবি কি সত্যিই তাকে ভালোবাসতো?
নাকি তৈমুর একাই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে ফেলেছিল একটু বেশি?
সম্ভবত এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আর কোনোদিন জানা হবে না।
সেদিন তৈমুর নাকি কেঁদেছিল।
ছেলেরা কাঁদে না — এই কথাটা সমাজ অনেকদিন ধরে বলে আসছে।
কিন্তু মানুষ তো মানুষই।
কিছু কিছু heartbreak মানুষকে ভেতর থেকে চুপ করিয়ে দেয়।
অ্যানির সময় সে কষ্ট পেয়েছিল কিশোর বয়সে।
কিন্তু রুবির সময় কষ্ট পেয়েছিল একজন grown man হিসেবে।
এই দুটো কষ্টের ওজন এক ছিল না।
এরপর তৈমুর আর সম্পর্ক নিয়ে ভাবেনি তেমন।
মন উঠে গিয়েছিল।
জীবনে তখন অন্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
তারপরের গল্পটা অন্যরকম।
আজ তৈমুর খুব successful।
জীবনের যেসব জিনিস একসময় তার ছিল না — confidence, stability, position, capability — আজ সবই আছে।
যে ছেলেটাকে একদিন আত্মীয় biscuit খেতে দিয়ে বলেছিল,
“এটা খাও, এত দামি biscuit তোমার বাবা কোনোদিন খাওয়াতে পারবে না।”
সেই ছেলেটাই আজ নিজের জীবনে এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেটা একসময় শুধু কল্পনা ছিল।
তৈমুর এসব ভেবে এখন হাসে।
কারণ সে জানে, মানুষকে কখনও underestimate করতে নেই।
কার অবস্থার পরিবর্তন কখন হবে, কেউ জানে না।
তবে একটা আফসোস তার এখনও রয়ে গেছে।
সেদিন কফি খেতে খেতে খুব আস্তে বলেছিল সে,
“ইচ্ছে করে কখনও কখনও রুবির বাবাকে বলি… একটু কি অপেক্ষা করা যেত না? আমি তো শেষ পর্যন্ত successful হয়েছিলাম…”
তারপর নিজেই চুপ হয়ে গিয়েছিল।
হয়তো mature মানুষরা শেষ পর্যন্ত বাস্তবতাকেই মেনে নেয়।
আজ তার সংসার আছে। সন্তান আছে। সফলতা আছে।
শুধু কৈশোরের সেই অদ্ভুত কাঁপা কাঁপা অনুভূতিগুলো আর নেই।
জীবনের একটা সময়ের পর মানুষ আর নতুন করে প্রেমে পড়ে না।
শুধু পুরনো স্মৃতির সাথে quietly বসবাস করতে শিখে যায়।
রাত করে গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফেরার সময় পুরনো গান শোনে তৈমুর। শহরের আলো দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে।
আর হয়তো কোথাও ভেতরে ভেতরে সে এখনও অনুভব করে —
জীবনে সে অনেক কিছু পেয়েছে ঠিকই,
কিন্তু কিছু মানুষকে পাওয়ার সময়টা হারিয়ে ফেলেছিল খুব আগেই।
হয়তো এটাই জীবন।
সব ভালোবাসা মানুষকে একসাথে রাখে না।
কিছু ভালোবাসা শুধু মানুষকে বড় করে দেয়।

Leave a Reply